সপ্তম আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা দিবস: বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের নতুন সেতুবন্ধন

এপ্রিল ২১: ২০ এপ্রিল ‘বিশ্ব চীনা ভাষা দিবসের’ সাথে বিশ্বের 'শস্য বর্ষণ' মৌসুমের সময় মিলে গেছে। এটি সপ্তম আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা দিবস। এ দিন বিশ্বব্যাপী চীনাভাষী পরিবারগুলো একত্রে একটি ‘চীনা ভাষা মিলনমেলায়’ অংশ নেয়।বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা চীনা সভ্যতার বিকাশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এতে চীনা জনগণের জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ নিহিত রয়েছে।জাতিসংঘের ভাষাগত বৈচিত্র্যের পক্ষে সমর্থন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা দিবসের বিশ্বব্যাপী প্রসার, ‘চায়না ট্র্যাভেল’ (চীন ভ্রমণ)-এর অব্যাহত জনপ্রিয়তা ও ‘বিকামিং চাইনিজ’ (চীনা হয়ে ওঠা)-এর মতো বহুল প্রচলিত ধারণার কারণে বিশ্বব্যাপী ‘চীনা ভাষার জনপ্রিয়তা’ বেড়েই চলেছে।এ বছর আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা দিবসের প্রধান প্রতিপাদ্য হলো: ‘চীনা ভাষা: রঙিন স্বপ্নকে আলোকিত করা’। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশে হাজার হাজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এটি কেবল চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়; বরং এটি বিশ্বকে দেখা ও নতুন রূপ দেওয়ার একটি অনন্য উপায়ও বটে।'বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব পোস্টস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস'-এ অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে সার্বিয়া, ব্রাজিল, ক্যামেরুন, রাশিয়া ও তুরস্কের পাঁচ তরুণের চীনা ভাষার মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণের গল্প দর্শকমণ্ডলীকে আবেগাপ্লুত করে। তাঁরা বলেন, ‘চীনা ভাষার কারণেই আমাদের দেখা হয়েছিল এবং এই সাক্ষাতের কারণেই আমাদের স্বপ্নগুলো কবিতা ও সুদূর দিগন্ত খুঁজে পেয়েছে’।অক্ষর বা শব্দ হলো সভ্যতার বাহক। নিজ দেশ থেকে দূর-দূরান্তে এবং চীন থেকে বিশ্বজুড়ে—সহস্রাব্দ ধরে চলে আসা এই বর্গাকার অক্ষরগুলো (চীনা অক্ষর) ভাষাগত আদান-প্রদান, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি সেতু নির্মাণ করেছে।বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগের সঙ্গে গভীরভাবে একীভূত হয়ে চীনা ভাষা ‘সংস্কৃতি + প্রযুক্তি’-এর মতো উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রমাগত নিজেকে প্রকাশের সীমানা প্রসারিত করছে।ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থী সিয়াও মেইহুয়া যখন প্রথম চীনা অক্ষরের সম্মুখীন হন, তখন তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন। তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই  ‘শিক্ষক’ যখন ওরাকল বোন স্ক্রিপ্ট (প্রাচীন চীনা লিপি) দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অক্ষরগুলোর পেছনের সাংস্কৃতিক সংকেতগুলো উদ্ঘাটন করে, তখন তিনি আনন্দের সাথে আবিষ্কার করেন যে, ‘এআই শুধু আমাকে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির আকর্ষণ উপলব্ধি করতেই সাহায্য করেনি, বরং আমার ও চীনা সংস্কৃতির মধ্যে একটি চমৎকার সেতুবন্ধনও তৈরি করেছে’।চীনে পড়াশোনা করার পর তুরস্কের বাসিন্দা ল্যছি একজন চীনা ভাষার শিক্ষিকা হয়েছেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা যখন প্রথমবারের মতো চীনা ভাষায় নিজেদের স্বপ্নের কথা বলেছিল, তখন তাদের উজ্জ্বল চোখের চাহনির কথা স্মরণ করে তিনি অপরিসীম গর্ব অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘চীনা ভাষা শুধু আমাকেই আমার পছন্দের পেশা খুঁজে পেতে সাহায্য করেনি, বরং এটি আরও অনেক মানুষকে তাদের স্বপ্ন খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে’।বর্তমান আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা শিক্ষা ব্যবস্থা শুধুমাত্র সাধারণ ভাষা শিক্ষার মডেলে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন—উভয় ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্র’ পেশাগত ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সাথে চীনা ভাষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ২৯টি দেশে ৩৯টি ‘চীনা ভাষা কর্মশালা’ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিশ্বব্যাপী চীনাভাষী পেশাদারদের ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যময় চাহিদা পূরণ করা যায়।ক্যামেরুনের জিয়েফু নির্মাণস্থলে বিভিন্ন দেশের প্রকৌশলীদের জন্য অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কেবল নতুন পেশাগত শব্দ ও জ্ঞানই অর্জন করেননি, বরং অন্যদের সাথে কীভাবে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে হয়—তাও শিখেছেন। তিনি বলেন, ‘চীনা ভাষা আমাকে বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপনের অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে’। সূত্র: ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

প্রযুক্তি
অর্থনীতি